http://shamsfood.com/

এ কেমন সাংবাদিকতা?

 

হাসান ইমাম রাসেল- সহ সভাপতি প্রেসক্লাব কোম্পানীগঞ্জ,নোয়াখালী-
সাংবাদিকরা নাকি অযথাই মানুষকে হয়রানি করেন। আমি শুনে তো রীতিমতো অবাক, এ কেমন সাংবাদিক বা সাংবাদিকতা?
সমস্যা তুলে ধরার দায়িত্ব কাধে নিয়ে, তিনিই স্বয়ং সমস্যার সৃষ্টির অনুঘটক ! হাঁ এমনটাই অহরহ ঘটছে মফস্বলে। কতিপয় অযোগ্য নামধারী সাংবাদিক নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এ পেশায় এসে সাধারন মানুষকে হয়রানী করছে। কিছুদিন পূর্বে একটি বাড়িতে বিয়ে হচ্ছে কনের বয়স ১৮ প্লাস এরপরও এক সাংবাদিক ইউএনও কে ফোন করে বলে বাল্য বিয়ে হচ্ছে পরে ইউএনও এসে কনের জন্ম নিবন্ধন দেখে ফিরে যায়। খবর নিয়ে জানা যায় ঐ সাংবাদিকের সাথে কনের পিতার জায়গা সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভেদ রয়েছে তাই তিনি এই সমস্যার সৃষ্টি করিয়েছেন।সাংবাদিকরা সমস্যার সমাধান করবেন সেখানে উল্টো সমস্যা সৃষ্টি করছেন!!
তাই বলতে চাই গণমাধ্যমকে কুলষতার হাত থেকে রক্ষা করুন। সঠিক সাংবাদিকতার চর্চা ও শিক্ষার পথকে প্রসারিত করুন।
বাংলাদেশে সাংবাদিকতার উজ্জ্বল ইতিহাস কম নয়। সাংবাদিকতার পেশাগত দক্ষতা ও মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য দিকপাল। যাঁদের অনন্য অবদানের কথা মানুষ আজো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। যারা তাদের কর্মযজ্ঞের দ্বারা নিজে আলোকিত হয়েছেন, গণমাধ্যমকেও করেছেন সমৃদ্ধ। আজ সাংবাদিকতা তারুণ্যের কাছে শীর্ষ পেশার পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু যে সাংবাদিকতা আজো সংবাদ তথা গণমাধ্যমের প্রাণ শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখছে, তা হলো মফস্বল সাংবাদিকতা।
মফস্বলে সংবাদ প্রকাশের কারণে আইনী জটিলতায় পড়ে আদালতের কাঠগড়ায়, কখনো স্থানীয় প্রভাবশালীর শিকার হয়ে আহত শরীর নিয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করা। এ সবই মফস্বল সাংবাদিকদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার সারাংশ। তবুও নেই সাহায্যের হাত বাড়ানোর মানুষ, নেই আইনী লড়াইয়ের সক্ষমতা। কিন্তু অনেকেই এসকল ঝামেলায় না জড়িয়ে উল্টো পথে যাত্রা করেন, যাদের অনেক সাংবাদিককেই স্থানীয়রা সাংবাদিক এর বদলে সাংঘাতিক বলে আখ্যায়িত করে।
কিন্তু এই গৌরবোজ্জ্বল মফস্বল সাংবাদিকতার মাঝেই যেন ভূত লুকিয়ে আছে, প্রচলিত কথায় যাকে বলে শর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে থাকা। আমরা অনেকেই হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে কথা বলি। বলি সুস্থ্যধারার সাংবাদিকতার উৎকর্ষের কথা। কিন্তু ভেতরের সমস্যাগুলোর উত্তরণ না ঘটা পর্যন্ত মফস্বল সাংবাদিকতার এ সমস্যার সমাধান অধরাই থেকে যাবে। এ কথা অনেকেই বুঝেও বুঝতে চায় না। এমনি প্রতিষ্ঠান প্রধানরা দেখেও না দেখার ভান করেন। তাই মফস্বল সাংবাদিকতাকে গৌরবউজ্জল করতে হলে স্থানীয় সংবাদকর্মীর পাশাপাশি পত্রিকা অফিস গুলোকেও একটু সচেতনতা বাড়াতে হবে। যোগ্যতা না দেখে যাকে তাকে আইডি কার্ড প্রদান করার ব্যাপারে একটু সচেতন হতে হবে।

http://shamsfood.com/