http://shamsfood.com/

নির্বাচন কালীন মন্ত্রী সভা একই থাকবে… ওবায়দুল কাদের

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কথা পাল্টালেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনকালীন সরকারের বর্তমান কাঠামোই অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
তবে আগামী ২৬ অক্টোবর দলের ওয়ার্কিং কমিটি, উপদেষ্টা কমিটি ও পার্লামেন্টারি কমিটির যৌথ সভা থেকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে তার কথার দৃঢ়হীনতা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নির্বাচনে না এলে ১৪ দলীয় জোট সম্প্রসারণ না হওয়ারও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এর আগে ২১ অক্টোবর রবিবার ড্যাফোডিল বিশ^বিদ্যালয়ের গোলটেবিল বৈঠকে নিশ্চয়তার সঙ্গে বলেছিলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট হবে এবং শিগগিরই সেটা হতে যাচ্ছে। এরপর সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি সফর নিয়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনকালীন সরকার বা এই মন্ত্রিসভার আকার ছোট না করার ইঙ্গিত দেওয়ার পরদিন দলের সাধারণ সম্পাদক তারই সমর্থনে জানালেন নির্বাচনকালীন সরকারের আকার পরিবর্তন না হওয়ার কথা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, নেত্রীর সর্বশেষ ভাবনায় যৌক্তিকতা আছে। মন্ত্রিসভার সাইজ বড়-ছোট ব্যাপার নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও একই অবস্থা।
নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখন সংবিধানে নেই। বর্তমান ব্যবস্থায় ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, তবে তিন মাসের ক্ষণ গণনা শুরু হলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অধীনে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন, যার নাম দেওয়া হয় সর্বদলীয় সরকার। ওই মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর নেতাদের নেওয়া হয়। স্বল্প পরিসরের ওই মন্ত্রিসভা সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। বিএনপিকে সেই সর্বদলীয় সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তারা প্রত্যাখ্যান করে।
পরে তারা দশম সংসদ নির্বাচনও বর্জন করে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, যেহেতু ওই সময় বিএনপি সংসদে ছিল এবং তারা নির্বাচনে আসতে চাইছিল না তাই তাদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার আন্তরিকতা থেকে তিনি নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট করেছিলেন এবং শরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
সচিবালয়ের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, গতবার আমাদের দেশে বিষয়টা ভিন্ন ছিল, মন্ত্রিসভার সাইজ ছোট হয়ে গিয়েছিল, ভিন্ন প্রেক্ষাপট ছিল, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয় ছিল, পার্লামেন্টে ছিল। এবার সাইজ ছোট হলেও দুই-একজন যুক্ত হতে পারে, এ অবস্থায় থাকলেও দুই-একজন যুক্ত হতে পারে।
কোন দল থেকে নতুন মন্ত্রী আসতে পারে জানতে চাইলে কাদের বলেন, রুলিং পার্টি থেকে আসতে পারে, মেইন অপজিশন পার্টি থেকেও আসতে পারে। সম্ভবত মেইন অপজিশন পার্টি থেকে আসতে পারে। আমার ধারণা থেকে বলছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলছি না।
নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীরা যখন একজোট হচ্ছে, তখন মহাজোট সম্প্রসারণের কোনো উদ্যোগ আছে কি না তা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। উত্তরে কাদের বলেন, ড. কামাল তার অবস্থান ব্যক্ত করেছেন, মেরুকরণটা কোথায় গিয়ে ঠেকে এখন তো অনেকগুলো জোট হয়ে গেছে।
জোটের মেলা দেখতি পাচ্ছি, জোট তারকাদের মেলা দেখতে পাচ্ছি। জনতার কতটা সমর্থন আছে এটি বিষয় নয়, আমি নেতা আমার সিল প্যাড থাকলেও তো দল। আগামী কয়েক দিনের ভেতরে অনেক কিছুই স্পষ্ট হবে মন্তব্য করে কাদের বলেন, কাউকে কটাক্ষ করছি না, তাদের আরও মেলা সামনের দিকে দেখতে পাবেন। এগুলো দেখেই সামনের দিনে চিন্তাভাবনা করব। আমাদের ১৪ দলীয় জোট অনেক আগে থেকেই সক্রিয়, জাতীয় পার্টির সঙ্গেও সমঝোতা আছে। বিএনপি নির্বাচন না করলে জাতীয় পার্টি তো আবার ৩০০ আসনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবে। তখন আমাদের তো আর জোট করার প্রশ্ন আসে না। মেরুকরণটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার ওপর নির্ভর করবে অ্যালায়ান্সের সমীকরণ কীভাবে করতে হবে।
http://shamsfood.com/