http://shamsfood.com/

পঁচা আদার ঝাঁজ মস্ত বড় ফেসবুক পন্ডিত !!!

২০১৭ সালে একদিন ঢাকায় একটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক আমাকে প্রশ্ন করলো কত দিন কাজ করো ? আমি বললাম ১১ বছর স্যার। তিনি বললেন জেলে গেছ কয়বার বললাম দুবার স্যার। তিনি বললো সবে তো সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি শুরু হইছে তোমার। আমি বললাম জি স্যার এখনও শিখছি তিনি বললেন একদিন পাকা হয়ে যাবে সমস্যা নাই। তার মানে এখনও পরিপক্ক হইনাই। আর এখন দুদিনেই নাকি মস্ত বড় সাংবাদিক বনে যায় অনেকে!!! সাংবাদিকতা মুড়ির চেয়েও সস্তা!!

প্রযুক্তির কল্যাণে গনমাধ্যমে যুক্ত হয়েছে অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজ। যা খুশি তা নামের ডটকম বসিয়ে কেউ কেউ হয়ে উঠছেন সাংবাদিক! খুব সহজ পদ্ধতি হিসাবে ব্যবহার করছেন ফেসবুককে। তবে বিপত্তি হলো গজিয়ে উঠা এসব ডটকমের সাংবাদিকদের নুন্যতম যোগ্যতা না থাকলেও দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন এলাকায়। পঁচা আদার নাকি ঝাঁজ বেশী। তারা আর কিছু পারুক আর না পারুক ইনিয়ে বিনিয়ে বেশ রং লাগিয়ে ধর্ষন, পরকিয়া, অসম প্রেম জাতীয় চটকদার ও রসালো খবর বানাতে পারে বৈকি!

ভালমত খোঁজ খবর না নিয়ে শুধুমাত্র মোবাইলে কিংবা অন্যের লিখা হুবুহু কপি করে নজরকাড়া শিরোনাম ও ভয়ানক কাল্পনিক ছবি ব্যবহারের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করছেন। হাবিজাবি খবরগুলোকে খাবার বানানো এরকম হিট সাংবাদিক ছড়িয়ে গেছে সমস্ত গ্রামের পাড়ায়-পাড়ায়। অল্প জ্ঞানে যতটুকু বুঝি, যে খবর মানুষ বেশী পড়বে বলে মনে হয় তা প্রকাশ করা তথ্য ব্যবসা, কিন্তু খবর প্রকাশের পর কি ধরনের প্রভাব সমাজের উপর পড়বে সেটি ভেবে সংবাদ প্রকাশই হল প্রকৃত সাংবাদিকতা। তাই জনস্বার্থের কথা চিন্তা না করে, রসালো মনগড়া ও চমক সৃষ্টিকারী খবর প্রকাশ সাংবাদিকতা নয় বরং ক্যাম্পাচারী (ক্যাম্পাচারি বুঝেনতো রাস্তার ধারে দাড়িয়ে ওৗষদ বিক্রি করা)

কিছু ফেসবুক পেইজ আছে যেগুলো ন্যাংটা হয়ে দলবাজি, জনৈক ব্যক্তির পদলেহন-এজেন্ডা বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের চামচামি করছে। রাত দিন খাসিকে পাঁঠা, গাধাকে হাতি বানাচ্ছে। আমি হলফ করে বলতে পারি এ সকল তোষামোদ মার্কা সাংবাদিকতা কেবল অপসাংবাদিকতার নামান্তর।

.! প্রযুক্তির কল্যানে গ্রামের দিনমজুর পর্যন্ত এখন সচেতন। এখন আমজনতাই সাংবাদিক, তাদের আছে বড় সংবাদ মাধ্যম যার নাম ফেসবুক।

তবে বিষয়টি এখানে সম্পুন্ন ভিন্ন। কারন প্রযুক্তির কল্যাণে আজ যে যতবড় প্রযুক্তিবিদ সে ততবড় সাংবাদিক। অনেকে নিজেকে জাহির করার জন্য ফেইসবুক পেইজ সাংবাদিকতা করছে। যা প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকতা নয়। তবে সঠিক সাংবাদিকতা করেন শুধুমাত্র গুটি ক’জন সাংবাদিক। এ ও জানি তাঁদের অনেক প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বাকীরা কপি সাংবাদিকতায় ব্যস্ত। নাম সর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন পত্রিকার আইডি কার্ড অথবা অনলাইন পোর্টালের মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তারা চষে বেড়াচ্ছেন। অর্ধ-শিক্ষিত সুবিধাবাদী এই সমস্ত সাংবাদিকরা প্রকৃত সাংবাদিকদের বির্বতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলছেন। তাই ঐ সকল সাংবাদিকদের বলছি আপনারা কপি-পেষ্টের সাংবাদিকতা ছেড়ে সৃজনশীল ও প্রকৃত সাংবাদিকতার চর্চা করুন। দিনশেষে সাংবাদিকতা একটি আবেগের স্থান, দায়িত্ববোধ ও সম্মানের স্থান। তাই প্রকৃত সাংবাদিক ভাইদের বলছি আপনারা এমনি এমনি সাংবাদিকদের বয়কট করুন। নতুবা আপনারাও পাবলিকের নিকট হাস্যস্পদে পরিণত হবেন।

এবার আসি মূল কথায়, সাংবাদিকরা এখন আর শুধু একক মাধ্যমে কাজ করেন না। ফলে সময়ের সংগে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মী। এখন কম বেশী সবারই নজর থাকে সাংবাদিক হওয়ার দিকে। সেটি সংবাদপত্র, রেডিও, অনলাইন পত্রিকা হোকনা ফেইসবুক পেইজ ।

আচ্ছা মন চাইলেই কি সাংবাদিক হওয়া যায়? বাজারের চাল ডালের মত টাকার বিনিময়ে এখন প্রেস কার্ড নাকি কিনতে পাওয়া যায়। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বালাই নেই। সম্পাদকের সংগে যদি ভাল সম্পর্ক থাকে অথবা দু-চারটে বিজ্ঞাপন দিলে তো আর কথায় নেই, প্রেস কার্ড প্রাপ্তি নিশ্চিত ! এর পরই বনে যায় মস্ত বড় ফেসবুক পন্ডিত । এসব পন্ডিতরা ফেসবুকে এমন ভাবে স্টাটাস দিবে মনে করবেন কোনো প্রভাষকের থেকে কম নয় । তারা জ্ঞান দিবে এমন এমন লোককে যাদের সামনে দাঁড়ানোরও যোগ্যতা তাদের নেই। আজ জাতি এসব ক্যাম্পাচার থেকে মুক্তি চায়।

লেখক- হাসান ইমাম রাসেল ( একজন ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী)

http://shamsfood.com/