http://shamsfood.com/

পরকিয়া অথবা ব্যাবিচার কেন বাড়ছে ?????

হাসান ইমাম রাসেল-
বিবাহ একটি পবিত্র সম্পর্ক হওয়ার পরেও বিবাহের রয়েছে কিছু নেতিবাচক দিক,যার অন্যতম হলো পরকীয়া। বিবাহ্ পরবর্তী পর পুরুষ বা পর নারীর সাথে অবৈধ প্রেম-ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ার নামই হলো পরকীয়া। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরকীয়া একটি সামাজিক ব্যাধি। এই পরকীয়ার কারণেই ভেঙ্গে যাচ্ছে অনেকের সোনায় মোড়ানো সাজানো সংসার। এর কারণেই অনেক অবুঝ শিশু বঞ্চিত হচ্ছে তার মা-বাবার প্রকৃত আদর-ভালোবাসা থেকে। নারী এবং পুরুষ মানুষ হিসেবে যেমন ভিন্ন,ঠিক একই ভাবে ভিন্ন তাদের চিন্তা-ভাবনাও। নারী-পুরুষ দু’জনেই পরকীয়ায় জড়ালেও তার কারণ গুলো স্বভাবতই হয় ভিন্ন। নানান পারিবারিক ও পারিপার্শি¦ক কারণে আমাদের দেশের নারীরা আজ পরকীয়ার দিকে ঝুঁকছে ক্রমশ। দিন দিন বাড়ছে পরকীয়া ও পরকীয়া জনিত নানান কাহিনী। কিন্তু কেন বাড়ছে এই অনৈতিক সম্পর্কের হার? কেনই বা আমাদের দেশের নারীরা পরকীয়ার দিকে ঝুঁকে নিজের সুন্দর জীবনকে করছেন বিষের মত ? শিক্ষিত,অশিক্ষিত,প্রবাসী,চাকুরীজিবী,ব্যাবসায়ী, ডাক্তার,পুলিশ কেউই বাদ যাচ্ছেনা এই অভিশাপের কবল হতে। চট্টগ্রামে একজন ডাক্তার নিজের জীবন দিয়ে আমাদের সমাজের মুখে চপেটাঘাত করে গেল এই পরকিয়ার কারনে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন এক স্বামী।

পরকীয়ায় জড়িত হওয়ার সবচেয়ে বড় এবং প্রধান কারণ হিসেবে ইসলামী ও শরীয়াতের জ্ঞানের অভাবকেই দায়ী করা যায়।যার মধ্যে ইসলামী ও শরীয়াতের প্রকৃত জ্ঞানের অভাব রয়েছে তার পক্ষেই শুধু অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়া সম্ভব ।
মানুষের মাঝে আজ নীতি-নৈতিকতার বড়ই অভাব। এখন আর আগের মত পরিবার বা সমাজের পক্ষ থেকে নীতি-নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া হয়না।
পরকীয়া নামক ব্যাধিকে উৎসাহিত করতে বিশেষ ভ’মিকা রাখছে বর্তমানের “নারীবাদি আইন”।
যে আইনের মারপ্যাচে পরকীয়ায় জড়িত নারীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছেন।অতি উৎসাহি নারীরা বর্তমান স্বামীর সংসার ছেড়ে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে চলে যাচ্ছেন অবলীলায়। নারীরা স্বেচ্ছায় এবং নিজের দোষে সংসার ত্যাগি হলেও স্বামীকে করে যাচ্ছে নিঃস্ব.
পরকীয়া প্রেমে জড়ানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো এটি। পরিবারের জীবিকা নির্বাহ ও সুখের জন্য স্বামী যখন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রবাসে প্রতিনিয়ত মেহনত করে যাচ্ছেন। ঠিক তখনই স্বামীর অনুপস্থিতির এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছেন কোনো কোনো সুযোগ সন্ধানী নারী।
কখনো কখনো অতি স্বাধীনতাই নারীকে পরকীয়ায় উৎসাহিত করে থাকে। আমাদের সমাজে অনেক সময় লক্ষ্য করা যায় যে,মেয়ে অন্যায় করলেও তার পরিবারের লোকেরা তাকে প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলে রাখে,ক্ষেত্র বিশেষে অভিভাবকদের কাছে মেয়ের পাহাড় সম অন্যায়ও অতি নগন্য মনে হয়। তাদের এই আশ্রয়-প্রশ্রয়ই তাকে আরো বেশি অন্যায় করতে এবং পরকীয়ার মত ঘৃণিত একটি কাজে জড়াতে উৎসাহিত করে থাকে। আসুন পরকীয়ার মত একটি সামাজিক ব্যাধিকে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে এবং পরিবার ও সমাজকে এর কালো ছোবল থেকে মুক্ত রাখতে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি করি ও ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি। পাশাপাশি এই অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করা হোক তাহলে হয়তো গুনেধরা এই সমাজে কিছুটা হলেও পরিবর্তন হবে।

http://shamsfood.com/