http://shamsfood.com/

পুঁজিহীন ব্যবসার পুঁজি চাঁদা আদায়

ব্যবসাটা দারুণ। কিছুই লাগে না। ব্রিটেনে চ্যারিটি রেজিস্ট্রেশন নিতে খুব একটা বেগও পেতে হয না। চালাক-ধূর্ত যারা তারা কিন্তু সহজেই তাদের পরিবারের বিভিন্ন মানুষের নাম নিয়ে একটা চ্যারিটি সংগঠন দাঁড় করিয়ে ফেলতে পার ব্যবসাটা দারুণ। কিছুই লাগে না। ব্রিটেনে চ্যারিটি রেজিস্ট্রেশন নিতে খুব একটা বেগও পেতে হয না। চালাক-ধূর্ত যারা তারা কিন্তু সহজেই তাদের পরিবারের বিভিন্ন মানুষের নাম নিয়ে একটা চ্যারিটি সংগঠন দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারে। পরিবারিক ব্যবস্থাপনায় থাকলে এ নিয়ে কেউ আর ঘাঁটাঘাঁটি করে না। কিংবা হিসেব-নিকেশের ঝামেলাও পোহাতে হয় না। এভাবেই এখন শুধু বাঙালি কমিউনিটিতেই গজিয়ে উঠেছে শত শত ভূঁইফোঁড় সংগঠন। এই সংগঠনগুলোর প্রায় সবক’টির নামের আগে বা পরে আরবি শব্দ থাকে। এই সংগঠনগুলোর কর্নধারদের হতে হয় শ্মশ্রুমণ্ডিত; হোন না তিনি একজন যুবক, তাতে কি!

লন্ডনে কয়েকটি টিভি চ্যানেল আছে বিকাল ৫ টা থেকে সেসব টিভিতে চলে আল্লাহ রাস্তায় দান করুন ওমুক সংগঠন তমুক সংগঠনকে।

বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, ঐসব চাঁদা উত্তোলনকারীদের মাঝে আছেন ব্যারিস্টার-সলিসিটর, সোশ্যাল ওয়ার্কার, ক্যামেরাম্যান-রিপোর্টার এবং ভিন্ন পেশার কিছু মানুষও। কিছু কমিউনিটি নেতাও ব্যবহৃত হন এ সব চ্যারিটি অ্যাপিলে। বিকেল পাচটা থেকে শুরু হওয়া এই সারা রাতের চাঁদা উত্তোলনের সময় পালাবদল করে প্যানেল বদল হয়। মানুষের পরিবর্তন আসে। ভিন্ন ভিন্ন শহরে অবস্থান করা সমাজে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় প্রতিপত্তি পাওয়া কিংবা কমিউনিটির নেতা-পাতিনেতাদের এখানে এনে জড়ো করা হয়, এবং এরাও টিভি‘র পর্দায় নিজের মুখ দেখিয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন এবং হাত পাতেন নিজের স্বজন কিংবা পরিচিতদের কাছে——তবে এ হাত পাতা অবশ্যই নিজের জন্যে নয়, তাদের ভাষায় গরীব-মিসকিন-এতিমদের জন্যে। যতই বছর গড়াচ্ছে, ততই যেন এই অর্থসংগ্রহেও আসছে নানা কৌশল। কেউ এমনকি নিজস্ব ব্যবসাকে সামাজিক আন্দোলন কিংবা সামাজিক কার্যক্রম হিসেবে চালিয়ে দিয়ে আল্লাহর নামে কিংবা মানবতার নামে চাঁদা চান। এতে ফলও হয়। যেমন হাসাপতাল করতে হবে, সামাজিক সহায়তার জন্যে চাঁদা প্রদান করতে কিংবা ট্রাস্টি হয়ে হাসপাতালের মালিক হতে উদ্বুদ্ধ করা হয় । এতে কাজও হয। কিন্তু ঐ সহজ-সরল মানুষগুলোকে কিভাবে বোঝাবেন যে, একটা হাসপতাল পঞ্চাশ-ষাট লাখ টাকায় হয় না, এর জন্য শত শত কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। আর সেকারণেই শত-সহস্র্র কোটি টাকা যতদিন না হবে, ততদিন চাঁদা উত্তোলন চলতেই থাকবে, ট্রাস্টি এবং মালিকদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। অর্থাৎ ব্যবসাটা এখানে পাকাপোক্ত আগামীর অনন্ত দিনের জন্যে। নির্মিতব্য হাসপাতালের জন্যে বছরের পর বছর চলতেই থাকবে এই চাঁদা তোলা।

এখানকার মসজিদ-মাদ্রাসা কিংবা স্কুলের জন্যে সংগ্রহ করা অর্থের কিছুটা হলেও স্বচ্ছতা আছে। সেজন্যে এদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্যে উত্তোলন করা অর্থ নিয়ে বড় ধরনের সন্দেহ সৃষ্টি না হলেও চাঁদা তোলার এই পদ্ধতির নীতিগত দিক নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু দেশ থেকে আসা মাদ্রাসাগুলো কিংবা তথাকথিত মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে চাঁদা চাওয়ার স্বচ্ছতা শুধু প্রশ্নবিদ্ধই নয়, এগুলো রীতিমত সন্দেহজনকও।
এর আগে দেখা গেছে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের অর্থ এমনকি জঙ্গি তৎপরতায়ও ব্যয় হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও এ ব্যাপারে বিভিন্ন সময় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দেশের প্রতিষ্ঠানের জন্যে সংগ্রহ করা লাখ কোটি টাকা কোন পথে বাংলাদেশে যায়, তা-ও তলিয়ে দেখা উচিৎ। সেজন্যেই বিদেশি অর্থ-সমৃদ্ধ ধর্মীয় এমনকি কথিত মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সরকারের মনিটরিং এর আওতায় নেয়া প্রয়োজন।ব্রিটেনপ্রবাসী বাঙালিদের হাজারো পরিচিত দুস্থ মানুষ পড়ে আছে দেশে। যাকাত-ফিতরা কিংবা সহায়তা তো দেশের মানুষগুলোরই পাওয়া উচিৎ। ভাবতে অবাক লাগে কি এক মোহের কাছে জিম্মি হয়ে আছে ব্রিটেনের অগণন বাঙালি। কিভাবেই এরা কোটি কোটি টাকা তুলে দেয় কোথায়, কোন্ অজানায়?

http://shamsfood.com/