http://shamsfood.com/

ফেনী জেলা পুলিশে ব্যাপক রদবদল করার পরিকল্পনা করছে পুলিশ সদর দফতর

ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ফেনী জেলা পুলিশকে। সম্প্রতি সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী রাফীর ওপর বর্বরতার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিভিন্ন সময়ের নানা অভিযোগ ও বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে ফেনী জেলা পুলিশে ব্যাপক রদবদল করার পরিকল্পনা করছে পুলিশ সদর দফতর। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও একাধিক থানার ওসিসহ দীর্ঘদিন ধরে ঘুরেফিরে ফেনীতে অবস্থান করা বেশ কিছু কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার বা অন্যত্র বদলি করা হতে পারে।

পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। এ ছাড়া গত তিন দিন ধরে ফেনী শহর এবং সোনাগাজী, সোনাইমুড়ি ও দাগনভুঞাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা ক্ষোভ ও অভিযোগের কথা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ঘুরেফিরে এই একই জেলায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসা বেশ কিছু পুলিশ কর্মকর্তা এখানে নানা অনিয়ম ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে একই জেলায় অবস্থান করার ফলে ওইসব পুলিশ কর্মকর্তার মধ্যেও এক ধরনের ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে উঠেছে। প্রভাবশালী বলয় তৈরি করা ফেনীর ওইসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে দায়িত্ব বা কর্তব্যে অবহেলা, অসহায় মানুষদের হয়রানি, মামলা, আটকসহ নানাভাবে হুমকি দিয়ে ঘুষ-দুর্নীতি করার মতো গুরুতর অভিযোগ। এসব নিয়ে মুখ খুললেও পুনরায় বিপদে পড়তে হয় ভুক্তভোগী বা সাধারণ মানুষদের। এ অবস্থায় রাফীর ওপর নৃশংসতার ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা নিয়ে তদন্ত করতে বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

স্থানীয়রা জানান, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গেও মিলেমিশে ফেনী পুলিশের একশ্রেণির কর্মকর্তা বা সদস্য নানা অনিয়ম ও অপকর্মে জড়াচ্ছেন। সোনাগাজীতে রাফীর ওপর বর্বরতার ঘটনায় রাজনৈতিক সিন্ডিকেটে জড়িয়ে গিয়ে সোনাগাজীর তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন আসামিদের পক্ষে ভ‚মিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ওসি মোয়াজ্জেমের পক্ষ নিয়ে আবার পুলিশ সদর দফতরে রাফীর পরিবারকেই দোষারোপ করে লিখিত চিঠি দেন ফেনীর এসপি এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার। অভিযোগ আছে, এভাবেই প্রায় সব ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের মতো করেই চলছে ফেনীর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশ সদর দফতরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাফীর ওপর বর্বরতার ঘটনার পর ফেনী জেলায় নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যদের বিরুদ্ধেও অবেহলা-গাফিলতি, ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ পেয়েছে সদর দফতর। ব্যক্তি কর্মকর্তার দায় কখনই পুলিশ বিভাগ নেবে না। সে কারণেই পুলিশ সদরের ডিআইজি (মিডিয়া ও প্ল্যানিং) এসএম রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম ফেনী পুলিশের নানা কর্মকান্ড ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিয়ে মাঠপর্যায়ে তথ্যানুসন্ধানে নেমেছে। এই টিমের সুপারিশের ভিত্তিতেই যেসব পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলবে তাদের সেখান থেকে প্রত্যাহার বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ পুলিশ নানা ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় কর্মকান্ড ও ভুমিকা পালন করে এলেও ফেনীর মতো কিছু স্থানের কতিপয় পুলিশ সদস্যের কারণে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। এ বিষয়গুলো পুলিশ সদর দফতর গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ফেনীতে অবস্থান করা পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (মিডিয়া) এসএম রুহুল আমিন মোবাইল ফোনে বলেন, দুদিন ধরে তিনি ও তার টিম ফেনীর সোনাগাজীসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন। মূলত এখানকার পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যদের নানা কর্মকান্ড, কর্তব্যে গাফিলতি বা অবহেলাসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এখান থেকে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য একটি সুপারিশমালা জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীকে শ্লীলতাহানি ও পরবর্তীতে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবহেলা বা গাফিলতি এবং আসামিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মতো নানা অভিযোগ উঠেছে। রাফীর ঘটনা ছাড়াও ইতঃপূর্বেও বেশ কিছু ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ বিতর্কিত ভুমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে।

ফেনীতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাশেদ খান চৌধুরী এক যুগের বেশি সময় ধরে এই একই জেলায় ঘুরেফিরে নানা পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৪ সালে ফেনী মডেল থানায় পিএসআই হিসেবে যোগদান করেছিলেন তিনি।

http://shamsfood.com/