http://shamsfood.com/

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশিসহ নিহত ১৪

মালয়েশিয়ায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ৫ বাংলাদেশিসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশি এবং আহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে।  আহতদের মধ্যে এক বাংলাদেশির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে লেবার কাউন্সিলার জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছে।
গতকাল রোববার রাত সোয়া ১১টার দিকে দেশটির কুয়ালালামপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে জালান এস-৮ পেকেলিলিংয়ের পাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পড়ে ঘটনাস্থলেই বাংলাদেশি শ্রমিক ও চালকসহ ৯ জন নিহত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাসচালকসহ মারা যান আরো দু’জন।
সর্বশেষ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় আহত হন আরো অন্তত ৩৪ জন। এ ঘটনায় আরো ৮ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।  ইতিমধ্যে চারজন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
হতাহতদের মধ্যে নেপাল, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন। তারা সবাই মার্স কার্গো নামে একটি কোম্পানি তে চুক্তি ভিত্তিক কাজ করতেন এ সময় কাজের উদ্যেশ্যে নিলাই থেকে কুয়ালালামপুর ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।  নিহত বাংলাদেশীদের মধ্যে চাঁদপুরের ২ জন, কুমিল্লার ২ জন এবং ১ জন নোয়াখালীর।
নিহতরা হলেন-চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার দেবপুর ৪নং ওয়ার্ডের মো. আনোয়ারের ছেলে সোহেল (২৪), চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার চরভাগল ৩নং ওয়ার্ডের মো. আমির হোসেনের ছেলে আলামিন (২৫), কুমিল্লা জেলার লাকসাম থানার দুরলবপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে মহিন (৩৭), কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার হাসানপুর কলেজ পাড়ার ঢাকাগাঁও গ্রামের মো. ইউনুস মুন্সির ছেলে মো. রাজিব মুন্সি (২৭) ও নোয়ালী জেলার চাটখিল থানার নোয়াখোলা ২নং ওয়ার্ডের নুর মোহাম্মদের ছেলে গোলাম মোস্তফা।
এ ছাড়া পরিচয় পাওয়া আহত বাংলাদেশিরা হলেন- সেরডাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমরান হোসাইন (২১) মোহাম্মদ নাজমুল হক (২১), মোহাম্মদ রজবুল ইসলাম (৪৩) এবং পুত্রাজায়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ ইউনুস (২৭), জাহিদ হাসান (২১), শামীম আলী (৩২) ও মোহাম্মদ রাকিব (২৪)। চিকিৎসাধীন ৮ জনের মধ্যে ৪ জনের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাই কমিশনের লেবার কাউন্সিলার জহিরুল ইসলাম ছুটে যান ঘটনাস্থলে। সেখান থেকে সারডাং, বান্তিং ও পুত্রাযায়া হাসপাতালে দেখতে যান হতাহতদের।
লেবার কাউন্সিলার জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ‘নিহত বাংলাদেশি ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে। যারা নিহত হয়েছেন আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুত তাদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি হতাহতদের ক্ষতি পূরণ আদায়ে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
http://shamsfood.com/